বাংলা কবিতা | মেঘ-মৃন্ময় -সুশান্ত কুমার ঘোষ

0
45
বাংলা কবিতা | মেঘ-মৃন্ময় -সুশান্ত কুমার ঘোষ

মেঘ-মৃন্ময়

সুশান্ত কুমার ঘোষ


মৃন্ময়ঃ “মেঘ কুমারী কোথায় থাকো ? কোথায় তোমার ঘর ?”

মেঘঃ “আঃ মরণ ! তাও জানো না ? ওই আকাশের পার –

যেখানটাতে রুদ্র রবির সৈন্য লাখে লাখে

সারাটা দিন অগ্নিব্যূহে আমায় ঘিরে রাখে !

রাত পাহাড়ায় লক্ষ তারা হাজার নীহারিকা

মান বাঁচাতে সবার সাথে যুদ্ধ করি একা !

অগ্নি গোলা যতই কেন ছুঁড়ুক সকাল হতে

তবুও তাকে দিই নি ধরা পায়নি আমায় ছুঁতে !”

মৃন্ময়ঃ “আহা! তবে তোমার তো বেশ বিপদে দিন কাটে

ছড়িয়ে আছে শত্রুসেনা তোমার পথে ঘাটে !”

মেঘঃ “যতই আমায় ঘিরে থাকুক সৈন্য লাখে লাখে

ধরা আমি তাকেই দেব – বাসব ভালো যাকে !

জোর খাটিয়ে আমাকে কেউ পায়নি কোনো কালে

গায়ের জোরে ধরতে এলে কালিই লাগে গালে !

ভয় দেখিয়ে মন পাবে না , শক্তি দিয়েও নয় ,

হৃদয় দিয়েই আমার হৃদয় করতে হবে জয় ।

সাত পৃথিবী রত্ন দিলেও পারবে না কেউ ছুঁতে

হৃদয় টুকুই দিতে হবে আমার হৃদয় পেতে ।“

মৃন্ময়ঃ “বুঝেছি গো মেঘ কুমারী হৃদয় তোমার আছে

তুমি কেবল ধরা দেবে হৃদয়বানের কাছে ।

কিন্তু যাদের শক্তি আছে – আছে নানান বল

লোভ লালসা ঈর্ষা প্রতাপ আকাঙ্ক্ষা আর ছল ;

ভুবন ভরা ধন সম্পদ রত্ন মনির কাছে

একটি ছোট হৃদয়ের আর মূল্য কি বা আছে ।

প্রবলেরা রত্ন দিয়েই হৃদয় নেবে কিনে ,

হৃদয়বানের নেই তো কিছুই একটি হৃদয় বিনে !

দুর্জনেরা ক্ষমতা আর ধনের অহঙ্কারে

খেয়াল বশে যখন তখন হৃদয় কোতল করে ।”

মেঘঃঃ “মেঘ কুমারী সহজ সরল – সস্তা হৃদয় নয়,

বলের জোরে ধনের জোরে করবে তাকে জয় !

আগুন দিয়ে পোড়ানো যায়- যায় না তাকে ছোঁয়া

যতই পোড়াক মিলবে না রস , মিলবে কেবল ধোঁয়া !

মেঘ কুমারী তারই হবে – তাকেই দেবে ধরা ,

যার আকাশে পাখনা মেলে নিত্য যাবে ওড়া ।

হৃদয়টা তার ভুবন ছাড়া আকাশ হওয়া চাই

তবেই হবে চপল চরণ মেঘ কুমারীর ঠাঁই !

হৃদয় যদি রেঙ্গে ওঠে ভালোবাসার তাপে

লাখ পৃথিবীর মুক্তো মানিক আসবে না তার মাপে ।

বুকের সঙ্গে বায়ুর যেমন হয় না ছাড়াছাড়ি

তেমনি করেই মেঘ- সেখানে খেলবে লুকোচুরি ।”

মৃন্ময়ঃ “মেঘ কুমারী ! আমার কেবল একটি কথাই ছিল !

একটি কথা বলতে এসে অনেক শোনা হল !

বলতে পারি সেই কথাটি ভরসা যদি পাই !

আমার কেবল একটি কথা , অন্য কথা নাই ।“

মেঘঃ “মরণ! তোমার কথা শুনে হেসেই হলাম খুন ,

একটি কথা বলতে এসে বললে হাজার গুণ !

বল তোমার আসল কথা – মতলবটা কি?

বিদেয় হওয়ার আগে তবে সেটাই শুনে নিই ।“

মৃন্ময়ঃ “মেঘ কুমারী ! এবার তুমি আমায় ধরা দেবে ?

আমাকে কি তোমার জীবন সঙ্গী করে নেবে ?”

মেঘঃ “বুঝেছি গো , মতলবটা আগেই গেছি বুঝে ,

রোদের টিলা পেরিয়ে কেন এলে আমার খোঁজে ।

আমারও তো হৃদয় বলে একটা কিছু আছে !

সেটা কখন পরেই গেছে বাঁধা তোমার কাছে ।

তবুও আমার বুকের ভিতর লুকিয়ে আছে ভয়

লুকিয়ে আছে লক্ষ দ্বিধা হাজারও সংশয় !”

মৃন্ময়ঃ “কিসের এত সংশয় গো , কিসের এত দ্বিধা ?

হৃদয় যখন মিলেই গেল – কিসের এত বাধা ?”

মেঘঃ “ ভয় করে গো ! ভয় করে খুব! হয় নাকো বিশ্বাস !

তোমরাই তো করছ আমার সখীর ছায়ায় বাস ।”

মৃন্ময়ঃ “ তোমার সখী ! কোথায় থাকে ? কোন দেশে তার বাস ?”

মেঘঃ “ তাও জানো না ? যাদের আদর খাচ্ছ বারোমাস !

নিচ্ছ ছায়া – পুষ্প – পাতা , খাচ্ছ সখীর ফল ,

সেই সখীকেই দিচ্ছ ফেড়ে চালিয়ে করাত কল !

তাই তো মনে দ্বিধা আমার – তাই এত সংশয়

যারা এত নিষ্ঠুর আর অহঙ্কারী হয় –

সেকি আমার মূল্য দেবে – রাখবে বুকে বেঁধে !

হয়তো দূরে ফেলেই দেবে – জীবন যাবে কেঁদে !

ধরা দিলেই বাঘের মত শরীর দেবে ছিড়ে!

রসটুকু সব ফুরিয়ে গেলে দেখবে না আর ফিরে !

তৃষ্ণা টুকু মিটে গেলেই হয়তো যাবো ফেলা

তখন আমার জীবন জুড়ে শুধুই অবহেলা !”

মৃন্ময়ঃ “ অমন করে আর বোলো না ! মর্মে ব্যথা বাজে !

তোমায় আমি চিরটাকাল রাখব হৃদয় মাঝে ।

তোমার সখী আমারও সই , দেখবে এবার থেকে

রাখব তাকে যত্ন করে আদর দিয়ে ঢেকে !”

মেঘঃ “ সখীর সঙ্গে তোমার তবে সন্ধিটা হোক আগে!

তোমার জন্যে সখীর মনে দয়া যদি জাগে ,

সখী যদি বরাত পাঠায় থাকবে না আর বাধা

দুজন মিলে সৃষ্টির ভার বইব আধা আধা ।

সখীর সঙ্গে তোমার আসল সন্ধি হবে যবে

সেদিন জেনো তোমার আমার মধুর মিলন হবে !”


কবি পরিচিতিঃ সুশান্ত কুমার ঘোষ , পুর্বাশাপল্লী , পোষ্টঃ গুসকরা ,জেলাঃ পূর্ব বর্ধমান – ৭১৩১২৮  । পশ্চিম বঙ্গ ।

Amar Sahitto Logo
Amar Sahitto Logo

ফেসবুকের বিকল্প আমার সাহিত্য কমিউনিটি নিবন্ধন করুন এখনি

ফেসবুকে মতামত
 

মতামত দিন

দয়া করে আপনার মতামত দিন
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন