পেটের জ্বালা লিখেছেন সুপ্রিয়া চক্রবর্ত্তী | ছোট গল্প | আমার সাহিত্য

আ মোলো যা! মুখপোড়া মিনসে সকাল থেকে কাজ নেই কম্মো নেই,একপয়সা রোজগারের ধান্দা নেই, দিনে দুপুরে ছাই ভস্ম গিলে এসে করতেছে দ্যাকো!!
বলি ও আমার পোড়া কপাল রে! ভোলানাথ এর চ্যালা তো, তেমনি হয়েছে,গাঁজা ভাঙ গিলে এয়েছে,আবার পিরিতির ঠ্যালা দ্যকো!! অ্যাই একদম আমার গায়ে পড়বেনে বলে দিলুম!! অ্যাঁ এই সব ছাই ভস্ম গিলে পিরিত একেবারে উথলে ওঠে!!
দেবো এবার মাতায় গরম জল ঢেলে! সব নেশা ছুটে যাবে!

উমহ , ছেলেটা ইস্কুল থেকে ঘরে ফেরার সময় হয়ে এলো,এলে কি খেতে দেব তার ঠিক নেই! ওনার ফুর্তি হচ্ছে!! বলি ও কালীর মা? নে আয় তো চ্যালা কাঠ টা, আজ মেরেই ফেলবো! কি ভেবেছে টা কি হ্যাঁ? সংসার টা আমার একার? আমি ছেলেটাকে পেটে করে নে এইচি? যে সব চিন্তা আমায় করতি হবে!!

ঘরে একটা ট্যাকা নেই যে দুটো চাল নে এসে ভাত ফোটাবো।হারামজাদার কাজে মন নেই, খাটবেনে,খুটবেনে,শুধু নেশা আর জুয়া! বলি এত বলচি কোনো ভুরুখ্যেপ নেই? ঘুম্মেই যাচ্ছে, ঘুন্মেই যাচ্ছে।আর আমার পোড়া চোকে ঘুম নেই গো,দুটো ভাতের চিন্তায়।

ওঠ,ওঠ, হাড় হাভাতে! আজ যেখেন থেকে হোক ট্যাকা নে আসবি,নইলে ঘরে ঢুকতে দেবনি বলে দিলাম।রোজ রোজ নেশা করবে,আর কাজে যাবার নাম নেইকো! যাহ,যাহ শিগগিরই!

জয় বাবা ভোলানাথ দেখো ঠাকুর,”আজ যেনো ছেলেটার মুকে দুটো অন্ন দিতে পারি। বাছা আমার কদিন ভাত পায় নে।মুড়ি, চিঁড়ে খাইয়ে রেকেছি।আজ দুটো ট্যাকার মুখ দেকিও ঠাকুর।

ওমা ওই তো খোকা এসে গেলো।আহাগো
মরে যাই।কি খেতে দেবো এবার?
কিছু দিতে হবে না মা।আজ ইস্কুলে তপু মুড়ি নারকোল এনেছিল,ওর থেকে খেয়েছি।আর আসবার সময় নিলুদের গাছে পিয়ারা পারছিলো দিল।এই নাও।কেটে নুন দিয়ে দাও,তুমি আর আমি খাবো দুজনে।

সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত হয়ে গেলো তোর বাপ কখন সেই গেছে,এখনও ফিরলো না, কোথায় গেলো বলদিকিনি? দেখে আসবো মা? না বাবা রাতের বেলা একলা যেও না,জায়গা ভালো না,দিনকাল খারাপ।আর একটু দেকি।

ওই খোকা তোর বাপ এসতেছে।
কইরে খোকা এসেগেছিস বাবা? এই নে তোর জন্যে ডিম আর চাল এনেছি।ও খোকার মা দাও না গো তাড়াতাড়ি করে খোকার জন্য দুটো ভাত আর ডিমের ডানলা রেঁধে দাও।আজ সবাই মিলে একসাথে বসে খাবো।তিন জনের তিনটে ডিম এনেছি।আজ পঞ্চাশ বস্তা ধান বয়েছি।টাকা পেলুম, হে হে হে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top