বেলাশেষে – প্রবীর কুমার চৌধুরী | ছোটগল্প লিখেছেন আমার সাহিত্য পোর্টালে

বেলাশেষে
প্রবীর কুমার চৌধুরী

সারাদিন থানা,পুলিশ,আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি তোলপাড় করার পর রাত বারোটার সময় খবর এল হাসপাতাল থেকে। পেশেন্টের অবস্থা সংকট জনক। বাঁচার আশা প্রায়ই নেই।
পুলিশ এসে পেশেন্টের একবার জ্ঞান ফিরতে যতটুকু তার কাছ থেকে জানতে পেরেছে তার সবটুকু নোট করে নিয়ে গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধান সভায় তুমূল উত্তেজনা ।  বিরোধী ও শাসক দল সমবেত ভাবে বলেছেন কোন রঙ নয় এই অন্যায়ের বিচার হবে। পুলিশ আসামিদের ধরার জন্য মরিয়া হয়ে খোঁজাখুঁজি করছে।

পরদিন সৌভিকের যখন জ্ঞান ফিরল মাথার সামনে মা,বাবা। মায়ের চোখ জলে ভেসে যাচছে, বাবা মাথায় হাত দিয়ে বেডের পাশের টুলে বসে। নীচে কলেজের সমস্ত ছাত্র ছাত্রী বন্ধুরা গভীর উদ্বেগে অপেক্ষা করছে।
আজকের কাগজে প্রকাশ সমস্ত কলকাতা উত্তাল। সবাই দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন।কোথাও কোথাও মিছিল বেরিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে তাঁরা মোটামুটি আসামিদের সনাক্ত করেছে আজ কিংবা কালকেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে পালাতে পারবে না বিশেষ নজর রাখছে।

দুদিন বাদে  সৌভিক একটু সুস্থ হওয়ার পর পুলিশের কাছে যে বয়ান দিল তা যেমন লোমহর্ষক তেমনি বীরত্ব পূর্ণ। সেদিন প্রাইভেট টিউশন থেকে ফিরতে একটু রাত হয়েছিল। কেয়াতলা স্টপেজের কাছে আসতেই দেখলো কয়েকটি ছেলে একটি মেয়েকে ধরে টানাটানি করছে।আর নিরুপায় মেয়েটি আপ্রাণ চেষ্টা করছে তাদের কাছ থেকে নিজেকে উদ্ধার করার। সৌভিকের মাথায় রক্ত চড়ে গেল।বাইকটাকে সোজা ফুটপাতের উপর তাদের কাছে থামিয়েই সামনের ছেলেটার মুখে সজোরে মারলো এক ঘুঁষি,ছেলেটি ছিটকে পাশের পার্কের রেলিংয়ে গিয়ে পড়লো। রীতিমতো জিমকরা শরীর সৌভিকের ।কলেজের সবাই ঈর্ষা নিয়ে তাকায় তার পেশীবহুল শরীরের দিকে ওদের সঙ্গে মারমিট করতে করতে মেয়েটিকে বলল
আপনি দৌঁড়ান,সামনের বিটে পুলিশ আছে খবর দিন আমি এদের আটকাচ্ছি ।

মেয়েটি যখন পুলিশ সাথে করে এসে  পৌঁছাল তখন সৌভিক ক্ষত-বিক্ষত জ্ঞান হারিয়ে অচৈতন্য। রক্তে ভেসে যাচ্ছে সারা শরীর।

আজ সৌভিক হাসপাতাল থেকে ছুটি পাবে।মা,বাবা,আত্মীয় ,বন্ধুদের সবার হাসিমুখ। যেন কোন বীর যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরছে।
এমন সময়ে একটি ছাব্বিশ,সাতাশ বছরের অপূর্ব সুন্দরী ভদ্রমহিলা  হাতে একগুচ্ছ গোলাপ সৌভিকের হাতে দিয়ে বলল আজ তোর  হাসিমুখ দেখে নিশ্চিন্ত হলাম রে ভাই। তবে এমন দুর্ঘটনার মধ্যে দিয়ে ভাই পাবো কল্পনাও করিনি । যাক আজ রাতে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবো।
প্রথমে চিনতে না পারলেও এখন সৌভিক চিনতে পেরেছে ,ইনি সেদিনের সেই অভিশপ্ত রাতের দুর্ঘটনা কবলিত মহিলাটি।
বাবা হাসতে হাসতে বললেন সুবুর এই কাজের জন্য আমি বাবা হিসাবে ভীষণ গর্বিত। আর সুবু ইনি ঈশানি চৌধুরী।একটি রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থার ম্যানেজার। সেদিন বাড়ি ফেরার পথেই দুষ্কৃতীরা এঁকেই আক্রমণ করেছিল। যাক সবাই ধরা পড়ে এখন হাজতে।
মা বললেন তোর এতদিনের  মনোকষ্ট দুর হলো। ঈশানি তোকে ধর্মভাই ডেকেছে।
সৌভিক এমন সুন্দরী একটি দিদি পেয়ে ভীষণ পুলকিত  আনন্দিত হয়ে উঠলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top